দ্বিতীয় ধাপ উপজেলা নির্বাচনে, ৫ ওসিকে প্রত্যাহারের নির্দেশঃ নির্বাচন কমিশন।

দ্বিতীয় ধাপ উপজেলা নির্বাচনে, কেনো পাঁচ থানার ওসিকে, দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশঃ নির্বাচন কমিশন।

দ্বিতীয় ধাপ উপজেলা নির্বাচন
দ্বিতীয় ধাপ উপজেলা নির্বাচন – ২০১৯

দ্বিতীয় ধাপ উপজেলা নির্বাচনঃ

পাঁচ ধাপের  উপজেলা নির্বাচনে, ১৭ই মার্চ রবিবার, রাত শেষ ১৮ই মার্চ সোমবার, সকাল ৮ টা থেকে  দ্বিতীয় ধাপে ১১৬ উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ভোটগ্রহণ শুরুর একদিন আগে পক্ষপাতিত্ব করার অভিযোগে পুলিশের একজন ওসিকে প্রত্যাহার এবং চারজনকে ভোটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন।

ইসির যুগ্মসচিব “ফরহাদ আহাম্মদ খান” সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানার ওসিকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন ইসি। এছাড়াও দিনাজপুরের বীরগঞ্জ, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ও নওগাঁর মান্দা, এবং বান্দরবানের আলীকদম থানার ওসিকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া কর্মকর্তাদের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট জেলার অতিরিক্ত “পুলিশ সুপার” পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, বলে জানান ইসির যুগ্ম সচিব। ইসির সহকারী সচিব “আশফাকুর রহমান” জানান। দ্বিতীয় ধাপে ১৫ জেলার ১১৬ উপজেলায় সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে।

ভোটগ্রহণের জন্য প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনী মালামাল পাঠানো হয়েছে । এছাড়া এই ধাপে উপজেলা নির্বাচনে পার্বত্য এলাকায় সেনা থাকছে। ভোটের কারণে পর্যটন এলাকাগুলোয় পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সারা দেশে এবার উপজেলার নির্বাচন পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে । এর মধ্যে প্রথম ধাপের নির্বাচন কার্যক্রম শেষ হয়েছে ১০ মার্চ। এ নির্বাচনে নানা অনিয়মের কারণে, সেদিন ২৮টি কেন্দ্রে ভোট বন্ধ করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় অন্তত তিনজন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে। তারপরও প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণকে ‘মোটামুটি শান্তিপূর্ণ’ বলেছেন নির্বাচন কমিশন।

দলীয় প্রতীকে এই প্রথম বাংলাদেশে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হলেও “রাজনৈতিক” প্রধান বিরোধী দল “বিএনপিসহ” বেশিরভাগ দলেই এ নির্বাচন বর্জন করেছেন। যার কারণে, প্রথম দফার ভোটে মাঠে লড়াইয়ের তেমন কোন আমেজ দেখা যায়নি। প্রথম ধাপ নির্বাচনের দিন ভোট পড়ে ৪৩ শতাংশ।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় প্রথম ধাপে ২৮ জন প্রার্থী বিনা ভোটে নির্বাচিত হন। এবং দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই আবারো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকার কারণে, নির্বাচিত হলেন ৪৮ জন প্রার্থী।

ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ মাসের ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপ, ৩১ মার্চ চতুর্থ ধাপের উপজেলাগুলোতে ভোট হবে। এবং পঞ্চম ও শেষ ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হবে ১৮ জুন ২০১৯ তারিখে।

দ্বিতীয় ধাপ নির্বাচনে তথ্যঃ

→ ১৫ জেলার ১১৬টি উপজেলা ভোট।

→ বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মোট নির্বাচিত ৪৮ প্রার্থী জন। তাদের মধ্যে  চেয়ারম্যান ২৩, ভাইস চেয়ারম্যান ১৩, এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ১২ জন।

→ ভোটের লড়াইয়ে চেয়ারম্যান পদে ৩৩৭, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৪৮ জন, এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪০০ আছেন জন।

→ ১১৬ উপজেলায় ৭ হাজার ৩৯টি ভোট কেন্দ্রে, মোট ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯ হাজার ৬ জন।

→ নিয়মিত আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে খাগড়াছড়ির ৮ উপজেলা, বান্দরবানের ৭ উপজেলা ও রাঙ্গামাটির ১০ উপজেলায় থাকবে সেনাবাহিনী।

→ মোট ১২৯ টি উপজেলায় ভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী ধাপে স্থানান্তর, এবং আদালতের আদেশে স্থগিত ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে, ১৩ উপজেলা বাদ পড়েছে।

→ বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে, ৬ টি উপজেলায় (পাবনা সদর, ফরিদপুর সদর, নওগাঁ সদর, চট্টগ্রামের মিরসরাই ও রাউজান এবং নোয়াখালীর হাতিয়া) ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়ছে না। এছাড়া ৬ উপজেলার ভোট পিছিয়েছে, এবং গাইবান্ধার, গোবিন্দগঞ্জে, নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।

সোমবার যেসব উপজেলায় ভোট গ্রহণ হবেঃ
রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও, রংপুর, গাইবান্ধা ও দিনাজপুর জেলার সব উপজেলা।

রাজশাহী বিভাগের বগুড়া, সদর উপজেলা ছাড়া৷ নওগাঁর সব উপজেলা ও পাবনা জেলার সদর ছাড়া সব উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে সোমবার।

সিলেট বিভাগের সিলেট ও মৌলভীবাজারের সব উপজেলা এবং ফরিদপুর জেলার সদর ছাড়া সব উপজেলায় এদিন ভোটগ্রহণ হবে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের উত্তর চট্টগ্রামের সব উপজেলা (সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী)।  রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার সব উপজেলা এবং কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় এ ধাপে ভোটগ্রহণ হবে।

One Comment

Add a Comment

Your email address will not be published.