নির্বাচনের আগে হঠাৎ পুলিশের প্রশংসানীয় ভূমিকা রনি।

নির্বাচনের আগে হঠাৎ পুলিশের প্রশংসানীয় ভূমিকা রনি।

নির্বাচনের আগে হঠাৎ পুলিশের প্রশংসানীয় ভূমিকায় রনি।

নির্বাচনের জন্য নিজের নির্বাচনী এলাকায় প্রচার চালানোর সময় কর্মী সমর্থকদের ওপর ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হামলা চেষ্টা রুখে দেয়ায় স্থানীয় পুলিশের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (দশমিনা-গলাচিপা) পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি।

নির্বাচনের
রনি

বৃহস্পতিবার (২০ ডিসেম্বর) প্রচার চালানোর সময় নির্বাচনী এলাকায় হামলা চেষ্টা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নিজের ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন রনি। এতে তিনি বলেন, আজ এক অদ্ভূত ঘটনা ঘটলো আমার জীবনে। প্রায় গত সাত দিন ধরে অবরুদ্ধ থাকতে গিয়ে প্রচন্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ডিসিসহ গলাচিপা-দশমিনার প্রশাসনের নিকট থেকে কোন সাড়া শব্দ পাচ্ছিলাম না- ফলে কি করা উচিত তা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত সময় পার করছিলাম।

রনি বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে আমি সর্বদা নম্র, ভদ্র থাকার চেষ্টা করি। সকল পরিস্থিতি পরম ধৈর্য্য, সাহস ও বুদ্ধিমত্তা দ্বারা মোকাবিলা করি। আজ সকালেও বহু পক্ষের নানামুখী উস্কানি সত্ত্বেও নিজ সিদ্ধান্তে অটল থেকে প্রাণবন্ত অবস্থায় সময় পার করছিলাম।

কিন্তু হঠাৎ করে কি যে হলো বুঝতে পারলাম না। আমার ওপর কোন জ্বীন বা ফেরেশতা ভর করেছিলো কিনা তাও বলতে পারবো না। আমি একটি হোন্ডা নিয়ে কাউকে কিছু না বলে বাসা থেকে বের হয়ে দশমিনার দিকে রওয়ানা হলাম। আমার বাসার আশে পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কয়েকশ বিএনপি নেতা কর্মী আমার পিছু নিলেন।

দশমিনা বিএনপি অফিসে যখন পৌছালাম তখন দেখতে পেলাম কয়েক হাজার নেতা কর্মী জড়ো হয়ে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ, প্রশাসন, ম্যাজিষ্ট্রেট, ডিবি, এসবি সবাই এলেন।

আরো এলেন আওয়ামী লীগের নামধারী গুন্ডা বাহিনী। তারা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি-সোটা, ইট পাটকেল নিয়ে আমাদের ওপর আক্রমনের চেষ্টা করলো। দশমিনা থানার ওসি সাহেব তার বাহিনী নিয়ে গুন্ডাদেরকে প্রতিহত করার চেষ্টা করলেন।

গুন্ডারা পুলিশ ও প্রশাসনকে নিজেদের অনুগত বাহিনী মনে করে তাদের সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ শুরু করলো। ডিএসবির একজন সিনিয়র সদস্য গুন্ডাদের ছবি ভিডিও করছিলেন। গুন্ডারা তাকে আক্রমণ করে বসলো। পুলিশ তখন গুন্ডাদের ওপর লাঠি চার্জ শুরু করলো।

দশমিনা থানার ওসি আমাকে সসম্মানে তার পুলিশী গাড়ির প্রটোকল দিয়ে নিরাপদে আমার বাসস্থানে পৌছে দিলেন। পুলিশের এই নিরপেক্ষ আচরণে আমি বড়ই আশ্চর্য হয়েছি। একই সঙ্গে আমার পুলিশ ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞতায় মন ভরে গিয়েছে। ধন্যবাদ দশমিনা থানা পুলিশ এবং ধন্যবাদ দশমিনার সুদক্ষ ওসি সাহেবকে। একই সঙ্গে দশমিনার দায়িত্বরত ম্যাজিষ্ট্রেট সাহেবকেও ধন্যবাদ যিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পুরো পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গোলাম মাওলা রনি ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০১৪ সালে তাকে আর মনোনয়ন দেয়া হয়নি।

তবে তিনি এ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে নৌকার টিকিট না পেয়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *