লামিয়া কেনো এমন নির্যাতনের শিকার সে গরিব অসহায় বলে

লামিয়া কেনো এমন নির্যাতনের শিকার

লামিয়া কেনো এমন নির্যাতনের
ছবিতে লামিয়া আক্তার মরিয়ম

লামিয়া কেনো এমন নির্যাতনের কবলে: বরিশালে ১০ বছরের এক শিশু গৃহ কর্মীকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর অবস্থায় নির্যাতিত শিশুটিকে হাসপাতলে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত গৃহবধূকে আটক করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা এবং পলাতক রয়েছে গৃহ কর্তা আশরাফুল রহমান।

নির্মম নির্যাতনের শিকার শিশু লামিয়া আক্তার মরিয়ম, বয়স মাত্র ১০ বছর। মা মারা গেছেন আগেই বাবা রিস্কা চালক অভাবের তাড়নায় ৬ মাস আগে গৃহ কর্মী হিসাবে কাজ নেয় বরিশাল নগরীর মদিনা শহরের আশরাফুল ইসলামের এই বাড়িতে।

লামিয়া কাজ করার সময় একটু এদিক-ওদিক হলেই অর্থাৎ আমরা যাকে বলি পান থেকে চুন খসলেই তার উপর চালানো হতো় অমানবিক নির্যাতন সর্বশেষ সোমবার রাতে তার উপর হওয়া নির্যাতনের খবর জানতে পেয়ে হাসপাতলে ভর্তি করেন গোয়েন্দা পুলিশ।

এই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয় এই নির্যাতনে অভিযুক্ত গৃহবধূ শারমিন আক্তার কে। শিশুটিকে অর্থাৎ নির্যাতিত লামিয়াকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে, কথা শুনি নাই কাজে ভুল হয়েছে সেজন্যই আমাকে মারছে তারা দুজনেই মারছে। এর পর তাকে যখন আবার প্রশ্ন করা হয় যে তোমাকে কিভাবে তারা মারধর করতো ? তখন সে বলে আমাকে লাথি দিত দালানের সঙ্গে ধাক্কা দিত বেইলন দিয়ে মাথায় বাড়ি দিতো এবং মারতে মারতে বাইলন ভেঙ্গে যাওয়ায় বাজার থকে ব্যাথ কিনে নিয়ে আসছে ।

লামিয়া কেনো এমন নির্যাতনের
ছবিতে অত্যাচারী গৃহবধূ শারমিন আক্তার

এ প্রসঙ্গে গৃহবধূ শারমিন আক্তার বলেন যে আমি তাকে যতবারই মাতাম তারপরে আমার খুবই খারাপ লাগত সেজন্য পরে আমি তার কাছে গিয়ে মাফ চাইতাম আর বলতাম মা আমার ভুল হয়েছে আমায় মাফ করে দে। তাহলে লামিয়ার কাছে এই ভাবে মাফ চাওয়া কি তার একটা অভিনয় ছিল। জেনো লামিয়ার উপর কারা তাদের অত্যাচার বাহিরে প্রকাশ না পায়।

অন্যদিকে :

লামিয়ার সকল প্রকারের চিকিৎসার সহায়তার কথা জানিয়েছেন বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক।

লামিয়া কেনো এমন নির্যাতনের
ছিবিতে লামিয়ার চিকিৎসক

তিনি বলেন যে লামিয়ার সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বিশেষ করে পা থেকে শুরু করে ঘাড়ে,চোখে এবং মাথায। আমরা ইতিমধ্যে তার চিকিৎসার জন্য সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি সিটি স্কান থেকে শুরু করে এক্সরে করতে দেওয়া হয়েছে। আমরা ওর সুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিব এবং সে ও সি জি এর আওতায় থাকবে। এবং আইনি সহায়তা থেকে শুরু করে মানসিক কন্সেন্ট্রেশন সবকিছু এখান থেকে করা হবে।

অন্যদিকে শিশু নির্যাতনের বিষয়ে মামলা হয়েছে থানায় এবং সেই সাথে আইনগত ব্যবস্থার নেওয়ার কথা বলেছেন পুলিশ। সেই সাথে পুলিশ আর বলেছে তাদের হাতে বন্দী লামিয়া নির্যাতনকারী গৃহবধূ স্ত্রী শারমিন আক্তার কে মানব পাচার আইন এবং শিশু আইনের মামলা দায়েল করে তাকে আদালতে দেওয়া হয়েছে।

নির্যাতিত লামিয়া আখতার মরিয়ম এর বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোয়া গ্রামে।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *