লেবু ফ্রিজে রাখে খাওয়ার ফলে শরীরে কি হচ্ছে তা কি জানেন

লেবু ফ্রিজে রাখে খাওয়ার ফলে শরীরে কি হচ্ছে তা কি জানেন

লেবু খাওয়ার ফলে প্রতিনিয়ত আপনি শারীরিক বিভিন্ন রোগ, ব্যধির হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে কারণ,

লেবু
দেশ-বিডি২৫

দৈনন্দিন জীবনে লেবু আমাদের নানান ভাবে চাহিদা পূরণ করে আসছে আমরা অনেকেই আছি যারা লেবু খালি মুখে খেতে ভালোবাসি, আবার অনেকেই আছে যারা, খাবার সময় সেই খাবারের উপরে লেবুর রস, মেখে খাবার খায়। আবার অনেকেই আছে যারা লেবুর রস দিয়ে শরবত বানিয়ে খায় ।

বিশেষ করে গরমের দিনে যারা কৃষক শ্রমিক মাঠে ঘাটে কায়িক শ্রম দিয়ে থাকে। দুপুর হলেই অথবা কাজের মধ্যে তৃষ্ণা এলেই, শুধু পানি অর্থাৎ সাদা পানি না খেয়ে এই পানিতে একটু খানি লেবুর রস দিয়ে শরবত বানিয়ে খেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ মনে হয়। শুধু তাই নয় লেবু দিয়ে শরবত বানিয়ে খেলে শরীরের মধ্যে যে গ্লানি দুর্বলতা লক্ষ করা যায় তা কিছুটা শক্তি ফিরে আসে লেবুর শরবতে।

আমাদের প্রতিদিনের খাবারের সঙ্গে বা জুস বা অন্যান্য মিঠা পানির পরিবর্তে খাবারের সঙ্গি হিসেবে সব সময় লেবু থাকা উচিৎ । কারণ আপনি কি জানেন, যে এই লেবু ক্যানসার প্রতিরোধ করা, ওজন কমানো ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার মতো কাজও করে? এমনকি লেবুর জুসের চেয়ে এর খোসা আরো বেশি পুষ্টিকর ও বেশ কিছু রোগ নিরাময় করে, এমনটা প্রমাণিত হয়েছে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, লেবুর আরো উপকারিতা পেতে হলে তা ফ্রিজে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। তাদের মতে, ফ্রিজে থাকা লেবুর আশ্চর্যজনক উপকারিতা রয়েছে।

ফ্রিজে থাকা লেুবর গুণঃ
ফ্রিজে রাখা লেবুর খোসায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকে, যা কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখে ও ক্যানসার প্রতিরোধ করে। এতে প্রচুর ভিটামিন এ, বি সিক্স, সি, ই, আয়রন, জিংক, পটাশিয়াম, আঁশ ও প্রোটিন থাকে। ফ্রিজে রাখা লেবুতে ফ্ল্যাভনয়েড ও লিমোনয়েড থাকে, এসব উপাদান দেহকোষ শক্তিশালী করে ও ফ্রি র‌্যাডিকেলস দমনে ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্রিজে রাখা লেবু টিউমার, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে। এছাড়া তা রক্তের সুগারের মাত্রা ও রক্তচাপ ঠিক রাখে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। গবেষকরা বলছেন, লেবুতে ক্যানসার প্রতিরোধক বেশ কিছু উপাদান, যেমন- ভিটামিন সি, গ্লাইকোসাইড, পেকপিন ও লিমোনেন আছে। আর লেবুর খোসা মানুষের শরীর থেকে টক্সিক বা ক্ষতিকর উপাদান বের করে দেয় বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা।

লেবু ফ্রিজে রাখবেন যেভাবেঃ

লেবুর খোসায় যেহেতু পুষ্টিগুণ বেশি, তাই আগে ট্যাপের পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে লেবুগুলো। এরপর তা জীবাণু মুক্ত করতে বেকিং সোডা বা অ্যাপল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করুন। পরে আবারো ট্যাপের পানিতে সেসব লেবু ধুয়ে ফ্রিজে রাখতে হবে পুরো রাত।

ফ্রিজের লেবু ব্যবহার করবেন যেভাবেঃ
ঠান্ডা হওয়ার পর লেবু ফালি ফালি করে কেটে একটি গ্লাস জারে নিন, এরপর তা আবারো ফ্রিজে রেখে দিন। পরে প্রয়োজন মতো সেই লেবু ব্যবহার করতে পারবেন। অনেক পুষ্টিবিদ লেবুর পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খোসা সালাদের ওপর, স্যুপ, জুসে ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এছাড়া ত্বকের সৌন্দর্যে কাজে লাগাতে পারেন লেবুর খোসা। মৃতকোষ দূর করার পাশাপাশি ত্বকে ময়েশ্চারাইজিং সুবিধাও পাবেন।

চলুন এবার জেনে নেই লেবুর রসের আরো কিছু উপকারিতাঃ

বিশ্বজুড়ে লেবু খুবই জনপ্রিয় এবং প্রতিটি দেশের রান্নাঘরে এটি একটি অপরিহার্য খাবার। লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও ফাইবার। তাছাড়া এটি উদ্ভিজ্জ যৌগ, খনিজ এবং দেহের জন্য প্রয়োজনীয় তেলে সমৃদ্ধ।

শক্তি বৃদ্ধিঃ
লেবুর রস পরিপক্ব নালীতে প্রবেশ করে শরীরে শক্তি বৃদ্ধি করে। এটি মানসিক চাপ কমাতে ও মেজাজ ফুরফুরা করতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

কিডনির পাথরঃ
লেবুতে উপস্থিত লবণ বা সাইট্রিক অ্যাসিড কিডনিতে ‘ক্যালসিয়াম অক্সালেট’ নামক পাথর গঠনে বাধা দেয়। সবচেয়ে সাধারণ কিডনি পাথরগুলোর মধ্যে এটি একটি।

লিভার পরিষ্কার রাখেঃ
লেবুতে বিদ্যমান সাইট্রিক অ্যাসিড কোলন, পিত্তথলি ও লিভার থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করতে সাহায্য করে।

ভাইরাসজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধঃ
শারীরিক ব্যাকটেরিয়া/ভাইরাসজনিত সংক্রমণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে লেবুর রস।

হজমে সাহায্য করেঃ
লেবুর রস হজমে ব্যাপক সাহায্য করে। সেইসঙ্গে পরিপাক নালী থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়।এটি কোষ্ঠকাঠিন্যও দূর করে।

ত্বক পরিষ্কার করেঃ
লেবুতে উপস্থিত ভিটামিন ‘সি’ ত্বকের কোষের ক্ষয় প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। শুধু তাই নয়, এই উপাদান শরীরে কোলাজেন তৈরি করে। যা মুখের অবাঞ্ছিত দাগ দূর করে ঔজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে।

 ওজন হ্রাসঃ
লেবুতে প্রচুর আঁশ রয়েছে। যা ক্ষুধার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা খালি পেটে লেবুর রস খান, তাদের ওজন দ্রুত হ্রাস পায়। সুতরাং ওজন বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তা না করে প্রতিদিন সকালে লেবুর রস খান।

মূত্রনালীর সংক্রমণ দূরঃ
যদি মূত্রনালীতে সংক্রমণ ঘটে। তাহলে প্রচুর পরিমাণে লেবুর রস পান করুন। এটি আরোগ্য লাভে সাহায্য করবে।

চোখের স্বাস্থ্যঃ
লেবুর রস চোখের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ করে এবং চোখের সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই করে।

ক্যান্সার প্রতিরোধেঃ
লেবু অনেক ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে এর জুড়ি মেলা ভার।

তাই আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত প্রতিদিন একবার হলেও লেবুর রস খাওয়া। আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ আছে যারা দৈনিক একাধিক লেবু খেয়ে থাকে, সেটা খাবারের সঙ্গে হোক, অথবা শরবত বানিয়ে, অথবা শুধু মুখে লেবু খাওয়ার অনেক মানুষ আছে আমাদের সমাজে। শুধু তাই নয় এমন আরও অনেক মানুষ আছে যারা লেবুর ছাল ও খেয়ে থাকে। এমন মানুষের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা খুব কম হয়।

6 Comments

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *