সকালে সূর্যের আলো গায়ে লাগলে কি হয় জানেন

সকালে সূর্যের আলো গায়ে লাগলে কি হয় জানেন।

সকালে সূর্যের আলো গায়ে লাগলে যা হয়ঃ 
শীতের সকাল মানেই বাংলার গ্রামীণ অঞ্চলগুলোতে রাস্তাঘাটে, জমিতে বিভিন্ন জায়গায় খুব সকালে যখন সূর্য উঠে লাল হয়ে পূর্ব আকাশের দিকে। সেই লাল সূর্যের রশ্মি যখন ছুটে আসে পৃথিবীর দিকে ধীরে ধীরে যখন আলোকিত হয় গোটা পৃথিবী। তখন সেই আলোর একটু ছোঁয়া নিয়ে গায়ে মাখতে ব্যস্ত থাকে গ্রাম অঞ্চলের সহজ সরল মানুষ। কিছুদিন আগ মুহূর্ত পর্যন্ত এমন ঘটনা বিরল ছিল।

সকালে সূর্যের আলো
সকালে সূর্যের আলো

এখন সময় বদলে গেছে বদলে গেছে মানুষ। তাই হয়তো বা সময়ের সাথে তালমিলিয়ে এখন আর গ্রামীণ জীবনের মানুষকে আগের মত গ্রামের রাস্তায় দেখা যায় না। সেই মানুষদের যারা রোদের আলোয় নিজের শরীরের ঠান্ডা নিহত করার জন্য বসে থাকে বা থাকতো রাস্তার মোড়ে। দলবেঁধে গল্প করতো ঘন্টার পর ঘন্টা। কেউবা উঠানে বসে থাকতো সময়ের পরিবর্তনের কারণে, এখন এমন ঘটনা চোখে না পারার মত।

এখন গ্রামের মানুষ হয়ে গেছে শহরের মত খুব সকালে ঘুম থেকে উঠার পরিবর্তে কুয়াশার চাদর জড়িয়ে আরো ঘুমিয়ে থাকে সূর্য যখন পূর্ব আকাশে প্রকট হয়ে লাল রশ্মির আলো থেকে বেরিয়ে আসে গ্রামের মানুষের ঘুম যেন তখনি ভাঙ্গে। যেখানে আগে লাল সূর্যের আলোয় বাড়িতে মুরগের ডাকে ঘুম ভেঙে যেত, আর বেরিয়ে পরতো রাস্তায় সূর্যের আলো গায়ে লাগাতে।

এখনো গ্রামের মানুষ যেটুকু সকালের সূর্যের আলো গায়ে মাখতে পারে , শহরে মানুষ বর্তমান সেটা পায়না বললেই চলে । আগের তুলনায় বর্তমান শারীরিক পরিশ্রম এখন অধিকাংশেরই কমে গেছে। এ কারণেই দিনে দিনে মানুষের মধ্যে নানা প্রকার রোগের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। নতুন রোগ বাসা বাঁধছে শরীরে। গ্রামের থেকে শহরের বাচ্চারা শতভাগ যত্নে থাকার পড়েও একটু এদিক ওদিক হলেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

ভিটামিন ডি এর অন্যতম উৎস হলো সকালে সূর্যের আলো । আর এই ভিটামিন ডি এর অভাবে হাড়ে ও ত্বকের সমস্যা হতে পারে। হতে পারে ক্যানসারও। শরীরে ভিটামিন ডি, এর অভাবে হতে পারে আরো নানাবিধ সমস্যা।

শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাব থাকলে নিম্ন লিখিত সমস্যার সম্মুখীন হতে পানেনঃ

১। ভিটামিন ডি এর অভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। এ কারণে আশেপাশে কেউ ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হলে আপনিও তার শিকার হয়ে পড়তে পারেন সহজেই। এতে এসব রোগ থেকে সেরে উঠতেও দেরি হয়।

২। ভিটামিন ডি শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। অনেকেই হাড় শক্ত করার জন্য ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খেয়ে থাকেন। কিন্তু যথেষ্ট ভিটামিন ডি শরীরে না থাকলে এই ক্যালসিয়াম খুব একটা কাজে আসে না। ফলে হাড় হয়ে ওঠে নরম এবং ভঙ্গুর। একটু পড়ে গেলে বা আঘাত পেলেই হাড়ে চিড় ধরতে পারে।

৩। মাংসপেশীর দুর্বলতার অন্যতম কারণ হতে পারে শরীরের ভিটামিন ডি এর অভাব। বিশেষ করে মাংসপেশী বেড়ে যাওয়া এবং মাংসপেশী কাঁপার মতো সমস্যাগুলো সাধারণত ভিটামিন ডি এর অভাবেই হয়ে থাকে।

৪। স্মৃতিভ্রংশ ও অ্যালজাইমার্সে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। একই সঙ্গে হতে পারে বাতের যন্ত্রণা। গবেষণায় দেখা গেছে, Psoriatic Arthritis-এ যারা ভোগেন, তাদের ৬২ শতাংশের শরীরেই ভিটামিন ‘ডি’ এর ঘাটতি রয়েছে।

৫। অতিরিক্ত রক্তচাপও হতে পারে ভিটামিন ডি এর অভাবের একটি কারণ। শরীড়ে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন ডি না থাকলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

৬। হার্টের অসুখ, এমনকী স্নায়ুর সমস্যায়ও ভুগতে পারে মানুষ। এছাড়া নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায় এর ফলে। তাই শরীরের যে কোনও গাঁটে ব্যাথা, হাড়ে ব্যাথা ইত্যাদি হলে, সেগুলিকে আর অবহেলা করবেন না । দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

৭। অবসাদ বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে সূর্যের আলো গায়ে না লাগলে মানুষের অবসাদে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। মস্তিষ্কের হিপ্পোক্যাম্পাসসহ কিছু অংশ ভিটামিন ডি-র সাহায্যে মন চনমনে রাখতে সাহায্য করে।

৮। দাঁতের এনামেল ভঙ্গুর হয়ে যায়। একটু শক্ত হাড় চিবুতে গেলেই দাঁত ভেঙে যেতে পারে।

৯। ঘুম কমে যায়। দেরিতে ঘুম আসা কিংবা চট করে ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হতে পারে।

১০। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের ক্ষমতা কমে। গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি শরীরে ১০ শতাংশ বাড়লে ক্যান্সার থেকে বাঁচার সম্ভাবনা ৪ শতাংশ বেড়ে যায়। আর ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতে প্রস্টেট ক্যান্সারের বিপদ চার থেকে পাঁচ গুণ বেড়ে যায়।

কারো শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব আছে কি না এটা স্ক্রিনিং করলে বোঝা যায়। এগুলো আমাদের দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে করা হয়। পরীক্ষায় ভিটামিন ডি ৩০ ন্যানোগ্রামের ওপর যদি থাকে তাহলে পর্যাপ্ত আর যদি ১০ থেকে ২৯ যদি হয় তাহলে অপার্যাপ্ত বলা হয়। আর ১০ এর নিচে থাকলে সেটাকে ঘাটতি বা অভাব বলা হয়।

এ কারণে শরীরে সূর্যের আলো লাগানো অত্যন্ত জরুরি। তবে সেই সূর্যের আলোটা অবশ্যই হতে হবে সকালের। তবে বেলা ১১টার পরে কোন ভাবেই বা কোন মতেই নয়। কারণ দিনের অন্য সময়ের সূর্যের আলোয় বা রোদে থাকে অতি বেগুনী রশ্মিসহ নানা ধরনের ক্ষতিকর আলোক তরঙ্গ। যা আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর ।।

Add a Comment

Your email address will not be published.